Home » রাঙামাটির রাঙা পথে ঝালিয়ে আসুন নিজেকে

রাঙামাটির রাঙা পথে ঝালিয়ে আসুন নিজেকে

পার্বত্য জেলা রাঙামাটি নিয়ে এই প্রতিবেদন

একসের বর্ণিল মেঘগুলি সরে যাচ্ছে মাথার উপর থেকে ধীরে ধীরে দুর অজানায়। আর অন্যদিক থেকে কাপ্তাই হ্রদের ছলছলানি। হ্যাঁ, এটাই রাঙামাটি। অপূর্ব রাঙামাটি।

চারিদিকে মেঘমালার অপরূপ কৃত্য দিয়ে সৃষ্ট এই জেলায় অবস্থিত রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ হ্রদ ‘’কাপ্তাই হ্রদ’’। চমৎকার নৈসর্গিক দৃশ্যের স্থান হিসেবে যা ইতিমধ্যে দেশ বিদেশে ব্যাপক সুনাম কুড়ানোর পাশাপাশি পর্যটকদের মনের ভিতর আশ্রয় করে নিয়েছে।

যেকোন ছুটিতে গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটি। উপভোগ করতে পারেন পাহাড়-হ্রদের অপূর্ব মিতালী দেখতে।

তোঁ এখন আসল প্রসঙ্গে আসা যাক। কি কি আছে রাঙামাটিতে দেখার। সত্যি বলতে মোটামুটি ২ দিনের সফরেই রাঙামাটি-কাপ্তাই ভ্রমণ সম্পূর্ণ করা সম্ভব।পুরো ভ্রমণটাই ট্রলারকেন্দ্রিক যার জন্যে ট্রলারে করে চাইলে ২ দিনেই ভ্রমণ স্পটগুলি সম্পন্ন করতে পারবেন।

আকর্ষণীয় স্থানসমূহ  

রাঙামাটির প্রধান আকর্ষণীয় স্থানগুলির মধ্যে আছে কাপ্তাই লেক, পেদা টিং টিং, শুভলং ঝর্না, রাজবন বিহার, কাপ্তাই হাইড্র-ইলেকট্রিক প্রজেক্ট, দুম্লং পর্বত, হাজাছরা ঝর্না, ঝুলন্ত সেতু ইত্যাদি।

ভ্রমণ বৃত্তান্ত  

প্রথম দিন সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়ুন আর ট্রলার ঠিক করে ফেলুন। এখানে আমরা রাঙামাটি আর কাপ্তাইয়ের দর্শনীয় স্থানসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করব।

রাজবন বিহার

এটি রাঙামাটি জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি বিশেষ একটি স্থান। এটি রাঙামাটির একদম কাছেই অবস্থিত। অনেকগুলো সিঁড়ি পার হয়ে উঠতে হয় এই স্থানে। উঠার পর আপনি পুরো রাঙামাটি আর কাপ্তাইলেকের বিশাল এক অংশের প্যানরমা ভিউ দেখতে পাবেন এর উপরে থেকে। এখানে গিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অনেক নান্দনিক স্থাপনার পাশাপাশি তাঁদের সাথে পরিচয়ও হতে পারবেন।

তবেঁ, এখানে গিয়ে কোন চিৎকার চেঁচামেচি, হইহুল্লোড় করবেন না। এমনকি আপত্তিকর ভঙ্গিমায় ছবি তোলা বা অযথা ভিডিও করা, কথা বলাও সমীচীন নয়। 

শুভলং ঝর্না

শুভলং ঝর্না শুধু রাঙামাটির নয় বরঞ্চ সমগ্র বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ঝর্নাগুলোর একটি এটি। কাপ্তাই লেক ঘুরতে এলে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বেয়ে আসা এই ঝর্নার পানিধারাই প্রথমে আপনার চোখে পড়বে। তবেঁ, অন্যান্য ঝর্নার মত শুষ্ক মৌসুমে এখানে পানি পাওয়া যাবেনা। এখানে পানি পেতে হলে বর্ষা মৌসুমেই যেতে হবে। বর্ষা মৌসুমে এখানে প্রায় ৩১২ ফুট উঁচু থেকে জলধারা ছপাত ছপাত করে আছড়ে পড়ে নিচে আর তার সুরের ধারায় মূর্ছা যায় ঘুরতে আসা পর্যটকেরা।

ফুরমোন পাহাড়

এটিও রাঙামাটি থেকে কাছেই। এর পাহাড়ে উঠে রাঙামাটির বিশাল এলাকা সহজেই দেখে নেয়া যায়। এখানে রাজবন বিহারের ফুরমোন শাখা নামে বৌদ্ধদের একটি বিহার এখানেও দেখা যায়। রাজবন বিহারের মত এত নান্দনিক স্থাপনা না থাকলেও এখানে গিয়েও বৌদ্ধদের বেশকিছু বিষয় অবলোকন করা যায়।

ডিসি বাংলো

কর্ণফুলী হ্রদের শরীর ঘেঁষে অবস্থিত রয়েছে ডিসি বাংলো। বাংলোর পাশে ছোট একটি টিলা রয়েছে যার উপরে আছে বাতিঘর ও ছাউনি। এখানে প্রবেশ করতে গেলে অনুমতি নিতে হয়।

জুম রেস্তোরাঁ

কাপ্তাই যাবার পথে পাহাড়ের চূড়ার দিকে এই রেস্তোরাঁটি অবস্থিত রয়েছে। চারপাশে পানি আর পাহাড় আর এর মাঝখানে এই রেস্তোরাঁ! কিন্তু, দুঃখজনকভাবে বলতে হবে এটি তেমন মানসম্মত নয়। তবেঁ, এর নান্দনিক অবস্থান আর খ্যাতির কারণে এখানে একবার গিয়ে দেখতে পারেন।

পেদা টিং টিং

কাপ্তাই হ্রদের চারিদিকে শুধু পাহাড় আর পাহাড়ি মেঘের ছোটাছুটি। এখানে ট্রলারে বা স্পিডবোঁটে চলতে চলতেই দেখা পেয়ে যাবেন। এখানে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী অনেক ধরণের খাবারের পাশে আরাম করার জন্য চমৎকার কিছু ছোট ছোট ছাউনিও পাবেন।

রাইখং লেক

এটি একটি গভীর প্রাকৃতিক হ্রদ। এই লেকের পাড়ে রয়েছে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী। এই লেক নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে অনেক ধরণের লোককথা বিদ্যমান। এখানে গিয়ে ডাব, কাঁঠালসহ আরও বিভিন্ন ধরণের ফল খেতে পারবেন একদম অল্প টাকায়।

সকাল সকাল বের হলে এই জায়গাগুলি কাভার করতে পারবেন। এরপর দ্বিতীয় দিন আবারো ট্রলার ঠিক করুন আর বেড়িয়ে পড়ুন। তবেঁ, দ্বিতীয় দিন একই ট্রলারে উঠার চেষ্টা করবেন এতে কিছু টাকা কম রাখবে। আর দ্বিতীয় দিন যেসব স্থান দেখবেন সেগুলো হল –

লংগদু

চারিদিকে শুধুই নীল আর নীল। হ্রদের সম্মোহনীয়তার আসল খোঁজ এখানে গেলেই মিলবে সবচেয়ে ভাল করে। ধরিত্রীর অপার সুন্দরের অবয়ব নিয়ে বসে আছে লংগদু যা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না। মাথার উপর দিয়ে ঘন মেঘের উরাউরি আর চারপাশে নীল পানির জলরাশি। এক কথা অসাধারণ! প্রকৃতির এই অপার বিস্ময় এখানে আসলে দেখতে পারবেন।

মুপ্পছরা ঝর্না

এটি রাঙামাটির বিলাইছরিতে অবস্থিত। শুভলং এর মত ততটা বড় না হলেও এটিও বেশ মনহরি ঝর্না। মুপ্পছরার উপরের দিকে একটি স্টেপের মাধ্যমে ঝর্নার পানি গড়িয়ে পড়ে। ওখানে পৌঁছানোটা একটু ঝুঁকিপূর্ণ হলেও রিস্ক নিয়ে যেতে পারলে অনিন্দ্য সুন্দর দৃশ্য অবলোকন করা সম্ভব।

ঝুলন্ত ব্রিজ 

রাঙামাটির প্রধান আকর্ষণ। এটিকে অনেকেই ‘’Symbol Of Rangamati’’ নামেও অভিহিত করে থাকে। চোখজুড়ানো, নান্দনিক শৈলীর এই ব্রিজ চমৎকার একটি সুনদ্র বিকেল কাটানোর জন্য একদম পারফেক্ট একটি স্থান। এর উপরে দাঁড়িয়ে রাঙামাটি লেকসহ কাপ্তাই হ্রদের পানিসহ চারিদিকে অবস্থিত অনিন্দ্য সুন্দর পাহাড় পর্বতের সুদৃশ্য দারুণভাবে উপভোগ সম্ভব। ব্রিজের ওইপাশে রয়েছে আদিবাসী গ্রাম। সেখানে গিয়ে আদিবাসীদের জীবনধারা সম্পর্কেও জানতে পারবেন।

এর মাধ্যমেই শেষ দিতে পারেন রাঙামাটি ভ্রমণ।

যেখানে থাকবেন

রাঙামাটিতে থাকার খরচ বেশ কম। নিরিবিলি চাইলে থাকতে পারেন রাঙামাটি পর্যটন মোটেলে। এছাড়াও কমের মধ্যে থাকতে পারেন গ্রিন হোটেল বা হোটেল প্রিন্সে।

যাবার উপায়

রাঙামাটি ঢাকা থেকে সরাসরি বা চিটাগাং হয়েও আসা যায়। সেন্ট মারতিন, ইউনিক, এস আলমসহ বিভিন্ন বাস আসে এখানে। চিটাগাং হয়েও আসতে পারেন। চিটাগাং এর অক্সিজেন থেকে এক ঘণ্টা পরপর বাস ছাড়ে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে।

রাঙামাটি কিছুটা আন্ডাররেটেড। তবেঁ, এখানে একবার আসলে বারবার আসতে মন চাবে। প্রকৃতি, হ্রদ আর পাহাড়ের মিতালী দেখতে। প্রতিটি ভাজে ভাজে সুন্দরের লীলাখেলা।