Home » বান্দরবানের আমাজন লামা

বান্দরবানের আমাজন লামা

                         

লামা বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা বান্দরবানের অন্তর্গত একটি উপজেলা। এই উপজেলাটির আয়তন মোট ৬৭২ বর্গ কিলোমিটার। বান্দরবান জেলার এই উপজেলাটি প্রকৃতপক্ষে একটি স্বর্গরাজ্য ভ্রমণপিপাসুদের জন্য।

লামা নামটি মূলত আহলামে রোয়া বা পাড়া থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। লামা শব্দটি চট্টগ্রাম জেলার একটি আঞ্চলিক শব্দ এবং এর আভিধানিক অর্থ স্থানীয় লোকদের মতানুসারে ভাটি এলাকা। লামা নামকরণ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে বেশ কিছু উপকথাও বিদ্যমান রয়েছে।

প্রায় ১১টি নৃ গোষ্ঠীর সংযোগে তৈরি হয়েছে এই লামা। এই নৃ গোষ্ঠীরা এই সবুজে ভরা অপার মহিমাময় স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের রানীকে দিয়েছে অপরূপ মাত্রা। এই হরেক রকমের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীরা এক অন্যরকম আবহ তৈরির পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে এক ব্যাপকতর মাত্রা দিতে সমর্থ হয়েছে।

লামাকে বলা হয় ‘’অরণ্যরানী’’। চারিদিকে যেন সবুজ সমারোহ আর পর্বতের অসাধারণ যুগপৎ। চারিদিকে তাকালে দৃষ্টি ভরে যাবে যা কারোরই। লামাতে যেতে হলে চকরিয়া থেকে উঠতে হবে। চকরিয়া থেকে লামা যাওয়ার রাস্তাও প্রাকৃতিক নিসর্গে ভরপুর।

লামার দর্শনীয় স্থানসমূহ

পাহাড়ি এলাকা আর বনজঙ্গলের সমন্বয়ে এখানে গড়ে উঠেছে বেশ অনেকগুলো পর্যটন স্থান।

  • মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স

এটি লামা পৌঁছানর মাত্র কয়েক কিলোমিটার আগে অবস্থিত। সমতল ভূমি থেকে এখানকার উচ্চতা অনেক প্রায় ২২ কিলোমিটার। ছোট বড় সবধরনের পাহাড়ি আর মেঘের অপরূপ মিলনমেলা চোখ হরণ করতে সক্ষম। পাহাড়ি অঞ্চল আর রাশি রাশি মেঘের অপূর্ব মিলনমেলা এখানে থেকে অবলোকন করা সম্ভব। এখানে প্রবেশমূল্য ২০ টাকা প্রতিজনে।

  • কোয়ান্টাম শিশু কানন

লামা থেকে মোটামুটি বেশ দুরত্তেই এটি অবস্থিত। দূরত্ত কিছুটা বেশি হবার কারণে এখানে আসতে চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক এলাকা কক্সবাজার বা কুয়াকাটার চাইতেও এখানকার সূর্যাস্ত অনেক বেশি অপরূপ ও মনহরি। হ্যাঁ, এতটাই সুন্দর আর নৈসর্গিক এই এলাকার সূর্যাস্তের দৃশ্য। চাঁদের গাড়ি ভাড়া লামা থেকে প্রায় দেড় হাজার টাকার মত পড়বে।

  • লামা চৌরঙ্গীর মিষ্টি

যারা লামায় বেড়াতে আসেন এটি তাঁদের জন্য অন্যরকম ট্রীট। লামায় এসে চৌরঙ্গীর মিষ্টি না খেলে ভ্রমণটাই কিছুটা অপরিপূর্ণ থাকবে!

  • মিরিঞ্জা পাড়া

বলতে গেলে ছোটখাটো একটা ভ্যালি। খুব সকালের দিকে যদি এখানে আসেন আর নিচের দিকে তাকান দেখেবন একগুচ্ছ পাহাড় ও ছোট ছোট বাড়ি আপনার চোখের আশপাশে গিজগিজ করছে। আর যদি কুয়াশা আচ্ছন্ন ভোরে মানে শীতের সময়ে অবলোকন করেন তাহলে তোঁ আর কোন কথাই নেই! এক পশলা স্বর্গই মনে হবে জায়গাটা।

  • বিলছড়ি বৌদ্ধ বিহার

লামা শহরের প্রাচীন একটি মন্দির এটি। স্বর্ণমন্দিরের মত এতটা কারুকার্যময় আর নান্দনিক না হলেও এর প্রাচীনত্ত আপনাকে অন্যরকম এক অনুভূতি দিতে সক্ষম।

  • লামা বাজার

আদিবাসীদের তৈরি জিনিষ সম্পর্কে সম্যকভাবে অবহিত হতে চান? তাহলে, লামা বাজারে দ্রুত চলে যান! আদিবাসীদের ক্রিয়েটিভিটি কতটা উচ্চ পর্যায়ের আর নান্দনিক হতে পারে এখানে না গেলে বিশ্বাস করবেন না। এখানে এমন অনেক কিছুরই দেখা পাবেন যা হয়ত আপনি আগে দেখেনওনি এমনকি নামও শোনেননি। তুলনামূলক বেশ কমদামেই অনেক সৌখিন জিনিষ ক্রয় করতে পারবেন এখান থেকে।

  • মাতামুহুরি ব্রিজ

একটি সুন্দর ও মনে রাখার মত বিকেল কাটাতে চান? মাতামুহুরি ব্রিজ আপনার অপেক্ষায় তাহলে। ব্রিজের উপরে দাঁড়ালে এর আশেপাশের দৃশ্য আর হিম করা বাতাস আপনাকে ভুলিয়ে দেবে সব দুঃখ কষ্ট আর আপনার মনকে করে দেবে সজীব ও স্নিগ্ধ। এখান থেকে চাইলে নদীরঘাটেও ঘুরে আসতে পারেন নৌকায় করে।

  • লামা থেকে মানিকপুর

লামা থেকে নৌকায় করে মানিকপুর নামে এক স্থান ঘুরে আসতে পারবেন। নৌকায় যাবার সময় অনেক সুন্দর সুন্দর পাহাড় আর মাতামুহুরি নদীও চোখে পড়বে।

যেভাবে যাবেন

প্রথমে ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে চিটাগাং। সেখান থেকে চকরিয়া যেতে হবে বাসে করে। সব মিলিয়ে ভাড়া লাগবে ৭০০-৮০০ টাকার মত। তারপর সেখান থেকে বাসে করে লামায়। ভাড়া পড়বে ৫০ টাকা।

থাকার ব্যবস্থা

লামায় কমের ভিতর থাকার জন্য বিভিন্ন ধরণের হোটেল পাবেন।