Home » বাংলাদেশের সেরা ১১ টি রিসোর্ট
বাংলাদেশের সেরা ১০টি রিসোর্ট

বাংলাদেশের সেরা ১১ টি রিসোর্ট

শিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলাস সাগরকন্যা কুয়াকাটা। দিনদিন পর্যটকদের আকর্ষণের মাধ্যমে পরিণত হচ্ছে এটি। পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় এখানে বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলও গড়ে উঠছে। সিকদার গ্রুপের নির্মিত ‘’সিকদার হোটেল এন্ড ভিলাস’’ সেটারই একটি অংশ।

প্রায় ১০ একর জমির উপর নির্মিত সবুজ শাওনে ঘেরা এই রিসোর্টটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এখানে রয়েছে ৬তলাবিশিষ্ট ভবন ও ১২টি ডুপ্লেক্স ভিলা। হোটেলের ভবনে রয়েছে প্রায় ১৭টি কক্ষ। একেকটি কক্ষে থাকতে খরচ পড়বে প্রায় ৮ হাজার টাকা করে। আর ১২ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে প্রিমিয়াম রুম। আর ডুপ্লেক্সের কক্ষগুলিতে থাকতে চাইলে খরচ পড়বে প্রায় ৩২ হাজার টাকা করে। এখানে কিং সাইজ বেড, সোফা, রিডিং টেবিল। সুইমিং পুল, ব্যায়ামাগারও এখানে পাওয়া যাবে।

পুরো হোটেলের কক্ষগুলি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। ভবনের দোতলায় রয়েছে একটি বিশাল কনফারেন্স রুম যেখানে প্রায় ১০০ এর উপর মানুষকে আপ্যায়ন করা সম্ভব। কুয়াকাটায় বড় ব্যবসায়ীরা যদি কোন দরকারি মিটিং এ আসেন তবে এখানেই তারা কাজ করতে পারেন। সুবিশাল এই জায়গাটিতে আরও আছে আধুনিক কিচেন ও ২ টি বিশাল অভ্যর্থনা রুম। এইসব কিচেনে থাই, কিচেন, ভারতীয়, বাংলাদেশীসহ হরেক রকমের খাবারের বাহারি ব্যবস্থা আছে।

২ টি আধুনিক কিচেন ছাড়াও পর্যটকদের খাবারের জন্য আরও আছে কফিশপ, ক্যান্টিন যেখানে নাস্তা করা, আইসক্রিম, চা-কফি, বেভারেজ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের আইটেমের ব্যবস্থা আছে। ভবনের বাইরে বামপার্শে একটি ইলেক্ট্রনিক ঝর্না লক্ষ করা যায়। রাতে এটি বাহারি আলো নিয়ে হাজির হয়। ঝর্নার পাশেই রয়েছে ছোটখাটো একটি লেক। ছোট হলেও এটি আরাম বা বিনোদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্তপুরন। পর্যটকরা এখানে হাঁটাহাঁটি, গল্পগুজব, মাছধরাসহ অনেক কিছু করতে পারে।

আর লেকের বিপরীত প্রান্তে ফুল ও ফলের বাগানের মত দেখা যায়। বাগানের ভিতর ছোট রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে পর্যটকদের হাটার সুবিধার জন্য।

লেকের সাইড ছাড়াও পুরো রিসোর্ট এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বারবিকিউ যদিও পর্যটকরা বারবিকিউ করার সময় লেককেই বেশি প্রাধান্য দেন। এখানে তারা হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠেন পার্টি করার সময়।

রিসোর্টের মেইন গেটের সামনে রয়েছে একটি ছোট ইকো পার্ক আর তার সামনে একটু এগুলেই পরিলক্ষিত হবে আরাধ্য কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত!

সিকদার হোটেলের মালিকপক্ষ এখানকার পর্যটকদের জন্য সুব্যবস্থা ও আরামদায়ক থাকা খাওয়ার ব্যবস্থার প্রতি ব্যাপক গুরুত্ত আরোপ করেছেন। এছাড়াও, তারা আরও জানিয়েছে বিশেষ বিশেষ দিবসগুলিতে ছাড় দিয়ে কিভাবে তারা পর্যটকদের জন্য অল্প খরচে থাকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন। সিকদার রিসোর্টের নতুন ভবনের কাজও প্রায় শেষের পথে।

মারমেইড বিচ রিসোর্ট

নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে প্রকৃতির কাছাকাছি  গিয়ে সময় কাটাতে চাইলে সময় করে চলে যেতে পারেন মারমেইড ইকো সি-রিসোর্টে। এখানে ঘটেছে আধুনিকতা এবং প্রকৃতির সম্মিলন। যা আপনাকে সজীব ও প্রাণবন্ত করে তুলবে ।

কক্সবাজার থেকে ১৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মারমেইড বিচ রিসোর্টে পৌছাতে হবে আপনাকে। নান্দনিক মারমেইড বিচ রিসোর্টটি ইকো-ট্যুরিজমের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। সমুদ্রের সূর্যাস্ত নয়নভরে দেখে মুগ্ধ হবার সাথে সাথে মজাদার সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা হবে মারমেইড বিচ রিসোর্টে। বাঁশ ও বেত দিয়ে রিসোর্টের দুই পাশে গেইট তৈরি করা হয়েছে । কাঠ-বাঁশের নান্দনিক খাবার ঘরের পরেই বালির বিচ। বিচে বসানো রয়েছে কাঠের চৌকি। নিরিবিলিতে সময় কাটানোর জন্য এই অংশটিকে খুব মনোরমভাবে সাজানো হয়েছে । পাশাপাশি ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের ব্যবস্থাও এখানে রয়েছে । জোয়ারের পানি যখন মারমেইডের একেবারে কাছে চলে আসে, তখন এখানে টেবিল বসানো হয়। মোমের আলোতে প্রিয়জনের সাথে রাতের খাবারটা সেরে নিতে পারবেন এখানে।

মারমেইডে সুইমিং পুলও আছে। চাইলে পুলের পাড়ে বসে ডাবের পানি পান করতে পারেন। চাইলে বোটে করে চড়ে সমুদ্রে মাছ শিকার করে সেই মাছ খেতে পারবেন আপনি। সেই ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠানটি করে রেখেছে । মারমেইড বিচ রিসোর্ট চারটি সিজনে পুরো বছরকে ভাগ করে তাদের খাবারের মেন্যুগুলো সাজায়। দেশি সেট মেন্যুর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্যুজিন রয়েছে দুপুর ও রাতের খাবারে। সবুজ গাছ-গাছালিতে সাজানো বাগানের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মুগ্ধতা আপনাকে স্পর্শ করে যাবে। এখানে রঙ্গিন কাচের বোতলের অংশ ভেঙ্গে এক ধরনের বাতি তৈরি করা হয়েছে। এরপর এর মধ্যে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন। সেখান থেকে তৈরি হওয়া রঙিন আলো আপনার মনকে ছুঁয়ে যাবে। এখানে বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক নকশা দেখে মুগ্ধ হতে হবে আপনাকে। ঢেউটিন দিয়ে ফ্রেম বানিয়ে তোয়ালে বসিয়ে বালি, সিমেন্ট ও কেমিক্যালের মিশ্রণে বানানো হয়েছে টব! সামনে গেলে চোখে পড়বে গাছের গুঁড়ির উপর কড়াই বসিয়ে বানানো বেসিন।

কক্সবাজার শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে মারমেইড ইকো রিসোর্ট, মারমেইড বিচ রিসোর্ট থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে। বিচ রিসোর্ট থেকে এখানে নৌকা বা স্পিডবোটেও আসা যায়। এই রিসোর্টির ঘরগুলোর ছাদ- বাঁশ ও ছন দিয়ে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, তা যেন গাছপালাগুলোর উচ্চতাকে ছাড়িয়ে না যায়। আশেপাশের নৈসর্গিক দৃশ্যের সঙ্গে মিল রেখে সব জায়গায় মাটি এবং কাঠ রঙের ব্যবহার করা হয়েছে।  ঘরগুলোকে বাইরে থেকে দেখতে কুটিরের মতো মনে হলেও ভেতরে কতটা আন্তরিকতা, যত্ন আর আধুনিকতা অপেক্ষা করছে আপনার জন্য, সেটি আপনার চিন্তারও বাইরে! ঘরের ভেতর মোটামুটি আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা এখানে বিদ্যমান। গোসল করার ঘরটায় ঢুকলে মুহূর্তেই আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। প্লাস্টিকের বোতলে ভর্তি বাজারি শ্যাম্পুর বদলে কাচের পাত্রে ভেষজ উপায়ে বানানো শ্যাম্পু রয়েছে। সেটা আবার সবুজ গাছের পাতা দিয়ে কায়দা করে ঢেকে রাখা।  পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জিনিসপত্র মারমেইড ইকো রিসোর্টে যথাসম্ভব কম ব্যবহার করা হয়েছে। পেঁচার দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ  যথাসম্ভব বহাল রেখে সব বাংলো তৈরি করা হয়েছে। ইয়োগা সেন্টার, স্পা, নৌকা ভ্রমণ, সম্মেলন কক্ষ, প্রেক্ষাগৃহ সব কিছুরই ব্যবস্থা আছে এই পরিবেশবান্ধব অবকাশযাপন কেন্দ্রে। এই ইকো রিসোর্টে অবকাশ যাপন কাটাতে আসা বিদেশির সংখ্যা কোনঅংশে কম নয়। এখানে সবথেকে বেশি আসেন ব্রিটিশ পর্যটক। নিরিবিলি এবং একান্তে প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানোর জন্যে মারমেইডের হানিমুন প্যাকেজও অনেকের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

গ্র্যান্ড সুলতান

দীর্ঘ পথ জুড়ে সবুজ গালিচা বিছিয়ে আছে সারি সারি চা-বাগান। চা কন্যারা নিপুন হাতে দুটি পাতা আর একটি কুঁড়ি সংগ্রহ করে ঝুলিতে ভরছেন।  এমনই এক মায়াবী সৌন্দর্য্যে ঘেরা মৌলভীবাজার জেলা।

সবুজে ঘেরা পুরো জেলাই যেন পর্যটন স্পট।

প্রকৃতিকন্যার রূপ-সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দলে দলে পর্যটকেরা ছুটে আসেন মৌলভীবাজার। আর তাদের অভ্যর্থনা জানাতে সেখানে অপেক্ষা করছে প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা হোটেল রিসোর্টগুলো। যার পথপ্রদর্শক ‘গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গল্ফ’।

দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের কাছে অতি পরিচিত পর্যটন এলাকা খ্যাত চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের পর্যটকদের জন্য শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে লাক্সারী রিসোর্ট ও ফাইভ স্টার হোটেল ‘গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট ও গল্ফ’ ।সম্পূর্ণ বাংলাদেশি অর্থায়নে চা ঝর্ণা আর বনভূমির শহর শ্রীমঙ্গলে ১৩.২ একর জায়গা নিয়ে শহরের অদূরে আন্তর্জাতিক মানের হোটেলটির প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়েছে।আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধারসহ ২ হাজার বর্গফুট জায়গার উপর গড়ে তোলা ৯ তলা ভবনে রয়েছে ১৪৫ টি কক্ষ এরমধ্যে ৪৫ টি কিং সাইজ এবং ৪৩ টি কুইন সাইজ বিছানা সমৃদ্ধ রুম।এতে পর্যটকদের বিনোদনসহ থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।খেলাধুলার জন্য রয়েছে একটি অসাধারন ৯ হোল অ্যামেচার গল্ফ মাঠ,লং টেনিস মাঠ,ব্যাডমিন্টন,বিলিয়ার্ড ও টেবিল টেনিস বোর্ড । বাচ্ছাদের জন্য আলাদা প্লে-জোনও রয়েছে। সর্বমোট ৩ টি সুইমিংপুলও এখানে রয়েছে।দেশের প্রথম অতিথি আবাস হিসেবে রিসোর্টটিতে থ্যি-ডি থিয়েটার হল রয়েছে যেখানে ৪৪ জন বসে সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন।এখানে একটি সুবিশাল পাঠাগারও স্থাপন করা হয়েছে। গলফ মাঠে হেলিকপ্টারও নামতে পারবে।এছাড়াও এখানে রয়েছে ১২শ জনের স্থান সংকুলান সমৃদ্ধ রোশনি মহল ও ৭শ ৫০ জনের স্থান সংকুলান সমৃদ্ধ নওমি মহল।রিসোর্টটিতে রয়েছে ফোয়ারা ডাইন,শাহী ডাইন ও অরণ্য বিলাস নামের ৩শ ৩০ আসন বিশিষ্ট ফাইভ স্টার মানের রেষ্টুরেন্ট। এছাড়াও রয়েছে গলফ পাহাড়িকা,পুল ডেক ও ক্যাফে মঙ্গল নামে দুর্দান্ত তিনটি ক্যাফে।কর্পোরেট অতিথিদের জন্য ভিন্ন মাত্রার সুবিধা এখানে রয়েছে। এখানে রয়েছে ৩ টি অত্যাধুনিক মিটিং কক্ষ, অত্যাধুনিক সুসজ্জিত জিমনেশিয়ামসহ রিসোর্টটিতে রয়েছে স্পা,সনা,জ্যাকুজি ও মাসাজ পার্লার।

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র ৩৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই রিসোর্টে আপনি সিএনজি অটোরিকশায় করে শ্রীমঙ্গল -ভানুগাছ সড়ক ধরে পৌঁছে যাবেন। এই রিসোর্টটি শ্রীমঙ্গল চা রিসোর্ট ও জাদুঘরের পাশেই অবস্থিত।

বাংলাদেশের সর্বশেষ্ঠ এবং সর্ববৃহত্তম অভিজাত গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্ট এন্ড গল্ফটিকে নিয়ে আমরা সত্যিই গর্ববোধ করতে পারি। পরিশেষ বলছি, গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্ট এন্ড গল্ফ সত্যিই অতুলনীয়। কি কথাটা বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে একবার পরিবার- পরিজন নিয়ে ভ্রমন করেই দেখুন।

প্যালেস রিসোর্ট এন্ড স্পা

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী পাহাড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠেছে ৫ তারকা হোটেল দি প্যালেস রিসোর্ট এন্ড স্পা । চারিদিক সবুজে ঘেরা পাহাড়, সরোবর, গিরিখাদ, ঝর্ণা আর ৩০ হাজার গাছে ঢাকা ১৫০ একর ভূমিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে কোথাও এতটুকু খুঁত খুঁজে পাওয়া যাবে না। এর চারিদেকে রয়েছে চা বাগান, রাবার বাগান, আনারস বাগান, আর লেবু বাগান। এজন্যে মনে হবে যেন পুরো সিলেট দেখা হয়ে গেল এক স্থান থেকেই। রয়েছে বিদেশী পাইন আর দেবদারুর সাড়ি। পাঁচ তারকা হোটেল বলতেই ইট পাথরের শহরের বিশাল অট্টালিকাকে বুঝালেও দি প্যালেস গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক পরিবেশে এবং প্রকৃতিকে বুকে ধারণ করে। আবাসনের জন্য এখানে পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে পাঁচ তারকা সুবিধা সমেত ছায়াঢাকা, পাখিডাকা ২৩টি ভিলা। তারমধ্যে ১ বেডরুমের ৮টি বাংলোর ভাড়া ১৫ হাজার টাকা। ২ বেডরুমের ৮টি বাংলোর ভাড়া পরবে প্রতি রাতে ২৫ হাজার টাকা। ৩ বেড রুমের ৪টি বাংলোর ভাড়া প্রতি রাতে ৩৫ হাজার টাকা করে। ২টি প্রেসিডেন্সিয়াল ভিলার প্রতি রাতের ভাড়া হল ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এগুলোতে সব ধরনের সুযোগ সুবিধাই রয়েছে। আর এর নামকরণ করা হয়েছে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকে স্মরণ করে। আমেরিকায় মুক্তিযুদ্ধের জন্যে তহবিল সংগ্রহের কাজ করা পন্ডিত রবি শংকর ও জর্জ হ্যারিসনের নামে নামকরণ করা হয়েছে এই ভিলা দুটির।

স্থাপত্য শৈলীর অনুপম নিদর্শন রয়েছে প্রধান টাওয়ার বহুতল ভবনটিতে। থাকার জন্য ১০৭টি রুম এটিতে আছে। রুমগুলোর ভাড়া আলাদাভাবে নির্ধারণ করা। এক্সিকিউটিভ কিং ৫৫টি রুমের ভাড়া ১০ হাজার টাকা করে। সিগনেচার টুইন ৩০ রুমের ভাড়া ১২ হাজার টাকা করে। আর সিগনেচার কিং ২২টি রুমের ভাড়া ১১ হাজার টাকা করে। দিনের বেলা পাখির ডাক আর রাতের বেলা ঝি ঝি পোকার ডাকের সাথে সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশে এখানে শোনা যায় শেয়ালের ঢাক। আর চোখে পড়বে খরগোসের দৌঁড়ঝাপ। এর বাহিরেও সুযোগ সুবিধার এত বেশী সমাবেশ যা বাংলাদেশের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্যালেস কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করছে এটি এশিয়া মহাদেশের মাঝেই অনন্য একটি রিসোর্ট।

প্যালেসে রয়েছে চারটি সভাকক্ষ, ৪শ জনের ব্যাংকুয়েট হল, ছোটদের খেলার জায়গা তিনটা, ফুটবল, বিলিয়ার্ড, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, ২টি টেনিস কোর্ট, ক্রিকেট নেট প্র্যাকটিস এর সুবিধা, দুটি জিম, রিমোট কন্ট্রোল কার রেসিংয়ের ব্যবস্থা। দুটো সুইমিংপুল ১টি পুরুষদের জন্যে আর একটি মহিলা দের জন্যে। দুটো সিনেপ্লেক্স এর মধ্যে ১টি থ্রিডি ও অন্যটি টুডি। স্থাপত্যশৈলীর সৌন্দর্যের দেখা পাবেন দুটি ঝুলন্ত সেতুতে। মসজিদটির নির্মাণশৈলীও অসাধারণ। দুটো নিজস্ব বিদ্যুত কেন্দ্র থাকায় এখানে বিদ্যুৎ নিয়ে কোন ভোগান্তি নেই। হেলিকপ্টার নামার হেলিপ্যাড আছে এখানে তিনটি। লেকে মাছ ধরা যায়। মাছ ধরার জন্য রয়েছে বড়শি আর আধারের ব্যবস্থা। এক সাথে ৫০ জন এখানে মাছ শিকার করতে পারবেন। তবে মাছ শিকারের পর তা রান্না করতে যেতে হবে রেস্টুরেন্টে। এর জন্য দিতে হবে বাড়তি চার্জ। এ ধরনের ৫টি রেস্টুরেন্ট রয়েছে প্যালেসে। এগুলো হল অলিভ রেস্টুরেন্ট, রেভ্যুলেশন ক্যাপে, নস্টালজিয়া, সাইগন ও সিসা লাউঞ্জ। আর বড়শিতে যাতে মাছ ধরে তার জন্য লেকে চাষ করা হয়েছে হরেক রকমের মাছ। হাঁটার জন্য এখানে রয়েছে ৭ কিলোমিটার ট্রেইল। বাই-সাইকেল চালানোর জন্যও ট্রেইল এখানে রয়েছে। আর হাটা চলার সময় পুরো এলাকা জুড়ে রয়েছে সাউন্ড সিস্টেমে মিষ্টি মধুর সঙ্গীত উপভোগ করার ব্যবস্থা। ওয়াইফাই সুবিধা রয়েছে পুরো এলাকাজুড়েই। এখানে সব ধরনের মৌসুমী ফলের গাছ রয়েছে। অতিথিদেরকে এই ফল আপ্যায়ন করানো হয়ে থাকে। প্রায় সবধরনের সবজি চাষ করা হয় কমপ্লেক্সের ভিতরে। ফলে এখানে কোন ভেজাল খাবার নেই। এখানে ২টি ট্যারেস রয়েছে। একটি হল টি-গার্ডেন ভিউ ট্যারেস আর অপরটি হল ফাউন্টেইন ভিউ ট্যারেস।

নাজিমগড় রিসোর্ট

সিলেটের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাত, সবুজ চা বাগানের কার্পেট, জাফলংয়ে ভারত থেকে পাথর নিয়ে নেমে আসা নদী। দিনের বেলা প্রকৃতির মনোরম জায়গা ঘুরে এসে রাতটা যদি শহরের হইচইয়ের মধ্যে কোনো হোটেলে থাকতে হয় তাহলে বেড়ানোর আমেজটাই আপনার নষ্ট হয়ে যেতে বাধ্য। আর এই বেড়ানোর আমেজ ধরে রাখার জন্যে আপনি থাকতে পারেন নাজিমগড় রিসোর্ট এ। সিলেট শহর থেকে সামান্য দূরে খাদিমনগরে এক নির্জন দ্বীপ গড়ে তুলেছে নাজিমগড় রিসোর্ট। তাদের ব্যবস্থাপনায় মেঘালয় সীমান্তের কাছে লালাখালে তৈরি হয়েছে পিকনিক স্পট। দিনের বেলা লালাখালে নৌকায় বেড়ানো অথবা পাশের কোন খাসিয়া পল্লী ঘুরে দেখা, অথবা চা বাগানের সরু পথে হাঁটাহাঁটি করে বিকেল-সন্ধ্যায় নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্যে এক আদর্শ অবসর যাপন কেন্দ্র এ নাজিমগড় রিসোর্ট।

সিলেট-জাফলং মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত এই জমকালো রিসোর্টটি। যা সিলেট শহর থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের রাস্তা। প্রায় ৬ একর জায়গার উপর গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম সুন্দর এই রিসোর্টটি যেখানে রয়েছে ২ শতাধীক লোকের থাকা,খাওয়াসহ সকল সুবিধা। রিসোর্টটি সব বয়সীদের জন্যই উপযোগী।

১৫টি কটেজ রয়েছে এখানে। এছাড়াও রয়েছে রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন পদের খাবার। রিসোর্টে আছে বিশাল এক বাগান, পিকনিক ও ক্যাম্পিং স্পট,সুইমিং পুল। ঢাকা থেকে এত দুরে জাফলংয়ের পাশে এমন একটি রিসোর্ট ভাবাই যায়না। নদীতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে নিজস্ব স্প্রিডবোট। স্প্রিডবোটে চড়ে সারি নদী হয়ে লালাখাল ভ্রমণ- যে কোনো পর্যটকের জন্যই লোভনীয় অফার। লালখালে আবার রয়েছে নাজিমগড়ের আকর্ষনীয় রেস্টুরেন্ট, সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ওপারের মেঘালয় পাহাড় দেখার জন্য পাহাড়ের উপরে ওয়াচ টাওয়ার। নদীতে চলছে পাথর উত্তোলনের কাজ। নদীর ওপারে ঝুলন্ত সেতু, এপারে নাজিমগড়ের রেস্টুরেন্ট। পাশেই খাসিয়া পল্লী, পানের বরজ। এই সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে কে বঞ্চিত থাকতে চায়? নাজিমগড় রিসোর্টে থাকার তিন ধরনের ব্যবস্থা আছে। আছে বিশাল টেরেস, ছোট ছোট বাংলো ও বড় ভিলা। এক একটির ভাড়া একেক রকম, তবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানে পাঁচতারা হোটেলের সমান। আছে স্পা ও পুল, যেখানে দূর করতে পারেন শরীরের সকল অবসাদ। প্রতিটি স্থাপনাই গাছপালা-জঙ্গলে ছাওয়া টিলার ধারে। ভিলা, টেরেস বা বাংলোর বারান্দায় বসে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় গাছগাছালির ছোঁয়া।

দুসাই রিসোর্ট

মৌলভীবাজারের গিয়াসনগরের শ্রীমঙ্গল রোডে আধুনিক দুসাই রিসোর্টের অবস্থান। এই রিসোর্টে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা।

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও বিভিন্ন চা বাগান এ রিসোর্ট থেকে কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থিত। দুসাই রিসোর্ট হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পাঁচতারকা মানের বুটিকভিলা রিসোর্ট ও স্পা।

ঢাকা থেকে দুসাই রিসোর্ট প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে অবস্থিত। এই রিসোর্টটি প্রায় ১০০০ ফুট সমান একটি লেক দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং পাহাড়ের ওপর সবুজ বনানীতে ঘেরা। এই রিসোর্টটিকে অবকাশযাপনের জন্য একটি আদর্শ স্থান হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

সারাহ রিসোর্ট

২০০ বিঘা জমির উপর গড়ে উঠেছে সারাহ রিসোর্ট। সারাহ রিসোর্ট টি গাজীপুর জেলার ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ীতে অবস্থিত। আর ঢাকা থেকে যেতে মাত্র দেড় ঘন্টার ড্রাইভ। এতে রয়েছে ৬টি বাংলো, ওয়াটার লজ, সারাহ টাওয়ার সহ পরিবেশবান্ধব নানা ধরনের সুবিশাল আয়োজন। এছাড়াও এখানে রয়েছে বাচ্চাদের জন্য ইনডোর, আউটডোর ক্রিকেট,   সুইমিং পুল, ফুটবল, জাকোজি, মাড হাউজ, ব্যাডমিন্টন এর আয়োজন। পিকনিক এর জন্য বড় শেড ও এখানে আছে।

রয়েল টিউলিপ রিসোর্ট

রয়েল টিউলিপ রিসোর্ট। পুরো নাম রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। কক্সবাজারের ইনানী বিচে গড়ে উঠেছে এই হোটেল। প্রায় ৫০ বিঘার ওপর গড়ে উঠেছে এই হোটেলটি। ফাইভ স্টার মানের সেবা দিয়ে এরই মধ্যে রয়েল টিউলিপ রিসোর্ট নজর কেড়েছে সবার। চারপাশে গাছে ঘেরা, সামনে সুইমিংপুল আর তার পরই বিশাল সমুদ্র। আর এর আশপাশেই রয়েছে হিমছড়ি ঝরনা ও বার্মিজ মার্কেট। এছাড়া হোটেলের ভেতরে রয়েছে ওয়াটার পার্ক,বিলিয়ার্ড, ব্যায়ামাগার, টেনিস ও ব্যাডমিন্টন কোর্ট, থ্রিডি মুভি হল এবং স্পা। এছাড়া সবার জন্য রয়েছে প্যারাসেইলিং, ডিপ সি ফিশিং ও স্পিডবোট রাইড সুবিধা। এখানে আছে দুটি সুইমিংপুল ও জ্যাকুজি, যার একটি শুধুমাত্র নারীদের জন্য। রিসোর্টের অতিথিদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ‘রেডিয়ান্স স্পা’। আপনার ভোজনের পূর্ণ তৃপ্তি দিতে এখানে আছে পাঁচটি বিশেষায়িত রেস্টুরেন্ট। আর সম্মেলন ও উৎসব আয়োজনের জন্য রয়েছে ১০ হাজার বর্গফুট বিস্তৃত জায়গা। এখানে আছে দুটি সেমিনার কক্ষ ও একটি বিশাল বলরুম। রিসোর্ট এবং এর নিজস্ব সৈকতে রয়েছে খোলামেলা জায়গা, এখানকার মুক্তমঞ্চে চাইলেই যে কেউ আয়োজন করতে পারবেন ডেস্টিনেশন ওয়েডিং,ফ্যামিলি প্রোগ্রাম, গালা নাইট, ফ্যাশন শোসহ ভিন্ন ধরনের আয়োজন।পুরো হোটেলে রয়েছে সর্বমোট ৪৯৩টি অভিজাত কক্ষ। প্রায় ১০টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে এই কক্ষগুলোকে। প্রতিটি কক্ষ থেকে ভিন্ন দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন আপনি। তেমনই একটি সুপিরিয়র কক্ষ। এখান থেকে হিল ভিউ ও সি ভিউ দুটিই আপনি উপভোগ করতে পারবেন। নবদম্পতিদের জন্য তৈরি করা লাক্সারি হানিমুন সুইটে পরিপূর্ণ একটি সংসারের সবকিছুই পাবেন। এ ছাড়া হোটেলটির প্রতিটি রুমেই রয়েছে টি/কফি মেকার, নিরাপদ পানির বোতল,  টিভি, শাওয়ার কিউবিকল ও ওয়াই-ফাই সুবিধা।

ডিভাইন ইকো রিসোর্ট

কক্সবাজারে যেসকল রিসোর্ট রয়েছে ডিভাইন ইকো রিসোর্ট তার মধ্যে অন্যতম।

ডিভাইন ইকো রিসোর্ট মেরিন ড্রাইভ রোড এ অবস্থিত। ক্যান্ডেল লাইট ডিনার এর জন্য ডিভাইন ইকো রিসোর্ট দারুণ একটি জায়গা।

ভাওয়াল রিসোর্ট

কর্মব্যস্ত নাগরিক জীবন কি কারো ভালো লাগে? প্রতিদিনের একঘেয়েমিপূর্ণ জীবনে যারা অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছেন তারা ঢাকার অদূরে গাজীপুর জেলার ভাওয়াল রিসোর্ট থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

গাজীপুরের প্রত্যন্ত এলাকায় মনোরম দৃশ্যমাখা গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে উঠেছে ভাওয়াল রিসোর্ট। এ রিসোর্টটি গাজীপুর জেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের নলজানি গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ৬৫ একর জমির উপর এটি প্রতিষ্ঠিত। এখানে রয়েছে ৬১টি কটেজ। প্রতিটি কটেজের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অসাধারণ নাম। অতিথিদের নিরাপত্তার জন্য এখানে রয়েছে ৪৫ জন আনসার এছাড়াও রিসোর্টের সার্বিক দেখা-শোনার জন্য রয়েছ ১৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

বিসিডিএম রাজেন্দ্রপুর

চারদিকে সবুজ বনরাজি এবং লেকভিউ সমৃদ্ধ গাজীপুরের ভাওয়াল বনাঞ্চল অধ্যুষিত রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক সার্ভিসেস লিমিটেড এর বিসিডিএম রাজেন্দ্রপুর রিসোর্ট সপরিবারে বেড়িয়ে আসা, কিংবা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের আউটিং ও মিটিংয়ের জন্য এক আদর্শ স্থান হয়ে উঠেছে। মোট ১২ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ১৫৬টি আন্তর্জাতিক মানের কক্ষ ও অনেকগুলো বহুমাত্রিক সম্মেলন স্থান মিলে রিসোর্টটি সারাবিশ্বে ইতোমধ্যেই সকলের নজর কেড়েছে। রাজধানী থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে নাগরিক কোলাহলমুক্ত রাজেন্দ্রপুরের এই রিসোর্টে তিনটি সুবিশাল টাওয়ার ভবনে ছড়িয়ে রয়েছে ১৫৬টি কক্ষ যার মধ্যে ৫৬টি ডিলাক্স টুইন বেড, ৪৪টি সুপার ডিলাক্স কুইন বেড, ৪৮টি সুপার ডিলাক্স টুইন বেড, এবং ৪টি করে জুনিয়র সুইটসও প্রিমিয়াম সুইটস। আরও রয়েছে ৪৮০ আসনবিশিষ্ট লেকভিউ অডিটোরিয়াম, ২৫০ আসনের রাজকীয় ব্যাংকোয়েট হল, ৮টি কনফারেন্স ভেন্যু, এক্সিকিউটিভ মিটিং রুমসহ আনন্দদায়ক ভ্রমণের আরামদায়ক সব ব্যবস্থা।

বিদেশের চেয়ে মোটেও কম কিছু নেই আমাদের। আমাদের প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য বিদেশের বহু দর্শনীয় জায়গাকে হার মানাতে বাধ্য। আপনার অবকাশ যাপনের দিনগুলো আনন্দময় কাটুক দেশের এই আকর্ষণীয় রিসোর্টগুলোতে।