Home » প্রায় ৭০০ একর এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রায় ৭০০ একর এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশে যে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অন্যতম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ৭০০ একর এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থিত। পাকিস্তান সরকারের সময়কালে ১৯৭০ সালে ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ডঃ মফিজউদ্দিন আহমদ ১৯৭০ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম উপাচার্য হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।  দেশের “সাংস্কৃতিক রাজধানী” হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিহিত করা হয়ে থাকে। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি কেউ কখনো ঘুরতে আসে তবে সে এই জায়গার প্রেমে পড়তে বাধ্য। কারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি যদি চোখ বোলান আপনার নজরে পরবে বিস্তৃত সবুজের সমাহার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে ২১-২২ টি লেক রয়েছে। শীতকাল চলে আসলে যেন সম্পূর্ণরূপে প্রাণ ফিরে পায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব লেকগুলো। কারণ শীত এলেই শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন,  নেপাল থেকে নাতিশীতোষ্ণ বাংলাদেশে চলে আসে অতিথি পাখিরা। আর এই অতিথি পাখিদের কোলাহলে মুখোরিত হয়ে ওঠে তখন পুরো ক্যাম্পাস। অতিথি পাখিদের দেখতে তখন প্রচুর দর্শনার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের জীববৈচিত্র্য। এখানে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে প্রজাপতি মেলা। এই ক্যাম্পাসে রয়েছে প্রজাপতি গার্ডেন নামের একটি জায়গা যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতির দেখা এক সাথে পাওয়া যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কেন্দ্র “ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র”। এই  “ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র” দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বৃহত্তম।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যে কোন দর্শনার্থীর জন্যে আরাধ্য একটি স্থান কারণ এখানে দেখার মত অনেক স্থাপনা রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসকল স্থাপনা রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল শহীদ মিনার, সংশপ্তক, অমর একুশে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত শহীদ মিনারটি বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনার। ৫২ ফুট ব্যাস ও ৭১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট শহীদ মিনারটির স্থপতি রবিউল হোসাইন। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য আর ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে একত্রে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের সম্মুখে এই শহীদ মিনারটি অবস্থিত। ত্রিকোণাকার রাস্তার মাঝখানে গড়ে তোলা হয়েছে এই শহীদ মিনারটিকে। শহীদ মিনারের প্রাঙ্গণটি সবুজ ঘাস ও বিভিন্ন রকমের বাহারী ফুলগাছের দ্বারা আচ্ছাদিত।  

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে ভাস্কর্য “সংশপ্তক” অবস্থিত। ভাস্কর্য “সংশপ্তক” এর স্থপতি শিল্পী হামিদুজ্জামান খান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও ঐতিহ্যকে ভাস্কর্যটিতে দৃশ্যমান করা হয়েছে। এই ভাস্কর্যে এক পা ও এক হাত হারিয়েও এক সংশপ্তক মুক্তিযোদ্ধা বিজয়ের হাতিয়ার ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে “অমর একুশে” ভাস্কর্য। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরী গেইট থেকে একটু সামনে এগিয়ে গেলেই চোখে পড়বে “অমর একুশে” ভাস্কর্যটিকে। “অমর একুশে” ভাস্কর্যটির স্থপতি শিল্পী জাহানারা পারভীন। পৃথিবীতে একমাত্র আমরা বাঙালি জাতিই ভাষার জন্যে প্রাণ দিয়েছি, ১৯৫২ এর ২১শে ফেব্রুয়ারির দিনটিকে স্মরণ করিয়ে দেয় এই ভাস্কর্যটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার পাশে মুক্তমঞ্চ অবস্থিত। বর্তমানে আচার্য সেলিম আল দীন এর নামকরণে এর নাম করা হয়েছে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চ। গ্রীক স্থাপত্য শৈলী অনুকরণ করে এই সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

মুক্তমঞ্চের পাশেই রয়েছে জহির রায়হান মিলনায়তন। এখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ইত্যাদির আয়োজন করা হয়ে থাকে।

অনেকদূর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসলেও খাওয়া-দাওয়া নিয়ে আপনাকে কোন দুশ্চিন্তা করতে হবেনা। কারণ এখানে রয়েছে বটতলা নামক একটি জায়গা যেখানের বিভিন্ন দোকানে আপনি পাবেন বিভিন্ন ধরণের সুস্বাদু খাবার। এখানে খুবই কম খরচের মধ্যে আপনি আপনার উদরপূর্তি করতে পারবেন। এখানকার বিভিন্ন খাবার দোকানে আপনি পাবেন বিভিন্ন রকমের ভর্তা, ভাজি। এমনকি মাছ-মাংস দিয়ে খেলেও আপনার খাবার খরচ খুব একটা বেশি হবেনা। ঢাকার এই ইট-পাথর ঘেরা কর্মময় জীবনে বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে চাইলে অথবা সবুজের মাঝে হারিয়ে যেতে চাইলে একদিন সময় করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে আসতেই পারেন। কথা দিচ্ছি হতাশ হবেন না।