Home » ঢাকার অদূরে বেড়ানো এই ঈদে

ঢাকার অদূরে বেড়ানো এই ঈদে

                                                          

ঈদ হচ্ছে প্রিয়জন, পরিবার-পরিজনকে নিয়ে ঘুরবার সবচেয়ে সুন্দর সময়। লম্বা ছুটির কারণে হাতে অফুরন্ত সময় থাকে তখন। তাই, এই অবসর সময়টা কোথাও থেকে ঘুরে এসে মন মানসিকতা চাঙ্গা করে আবারো কাজে মনোযোগ দেয়ার জন্য একটা উপযুক্ত মাধ্যম ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি। আসুন দেখে আসি ঈদের ছুটিতে ঢাকার অদূরে কোথায় কোথায় বেড়াতে যাওয়া যায়।

  • গোলাপ গ্রাম – ঢাকার একদম কাছেই সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুরে অবস্থিত গোলাপ গ্রাম। সাদুল্লাহপুরকেই মূলত গোলাপ গ্রাম বলে ডাকা হয়। পুরো গ্রামে রাশি রাশি গোলাপের ছড়াছড়ি। হরেক জাতের মধ্যে সবচেয়ে ভাল মিরান্দি জাতের গোলাপগুলি।চাইলে এখান থেকে একদম কমদামে অনেক গোলাপ একসাথে কিনেও নিতে পারেন। একেকটি গোলাপের মূল্য মাত্র ২ টাকা করে। বলা বাহুল্য, ঢাকার শাহবাগ, ধানমণ্ডি, আগারগাও এসব এলাকার বিশাল ফুলের বাজারগুলিতে এখানকার ফুল দ্বারাই চাহিদা মেটানো হয়। স্থানীয় ফুলচাষিদের উদ্যোগে শ্যামপুর গ্রামে প্রতি সন্ধ্যায় বসে গোলাপের হাট।

যাওয়ার উপায় – উত্তরার হাউজ বিল্ডিং থেকে বা মিরপুর বৃন্দাবন থেকে দিয়াবারি পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে মেইনরোডে লোকাল গাড়িতে চড়ে বিরুলিয়া ব্রিজ পর্যন্ত যেতে হবে। বিরুলিয়া ব্রিজ থেকে ২০-৩০ টাকা অটো ভাড়া করলেই গোলাপ গ্রাম যাওয়া সম্ভব।

  • নুহাশ পল্লী – রাজধানী থেকে অল্প দুরত্তে গাজীপুরের চৌরাস্তা থেকে প্রায় ২০-২২ কিলোমিটার দুরত্তে অবস্থিত প্রয়াত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার হুমায়ুন আহমেদের বাসস্থান নুহাশ পল্লী। এখানে গেলে অনেক কিছুই আপনার পরিচিত ঠেকতে পারে যদি আপনি হুমায়ুন আহমেদের নাটক দেখে থাকেন কেননা তার নাটকের অনেক শুত্যিং মঞ্চায়িত হয়েছে এই বিশেষ স্থানটিতে। বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা, ফলজ, ঐষধী গাছ, ঘাস, ছোট ব্রিজ, বন জঙ্গল সব মিলিয়ে বলা চলে পারিবারিক মিলনমেলা বা পিকনিকের জন্য সম্পূর্ণ আদর্শ একটি স্পট হচ্ছে নুহাশ পল্লী। দুর্লভ সব গাছ, তিনটি চোখ ধাঁধানো বাংলো, সুইমিং পুল, পুকুর, ফুলের বাগান সব মিলিয়ে পারিবারিক পিকনিকের জন্য ও একদিনের জন্য ঘুরের দেখার বিশেষ স্থান এটি। এখানেই শায়িত আছেন বাংলা সাহিত্যের বরপুত্র হুমায়ুন আহমেদ।

     যাওয়ার উপায় – গাজীপুরের চন্দনা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হোতাপাড়া বাজার।      সেখানকার একটি গ্রামে (পিরুজালি) অনেক বছর আগে প্রায় ৪০ বিঘা জমির উপর তার প্রিয় এই নুহাশ পল্লীর গোড়াপত্তন করেন এই প্রয়াত সাহিত্যসম্রাট।

  • বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক – সুবিশাল স্থানে হরেক রকমের জীববিচিত্রতার স্বাদ নিতে চাইলে যেতে হবে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। পুরো পার্কটি প্রায় সাড়ে চার হাজার একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এটি পিকনিক স্পট ও পারিবারিক মিলনমেলার জন্য খুবই জনপ্রিয়। এখানে হরিণ, বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক ,মহিষসহ অনেক ধরণের জীবজন্তুর দেখা পাওয়া যায়। এসব পশুপাখি ছাড়াও রয়েছে অগণিত বৃক্ষরাজি। গজারি গাছ, শালবন, কাশবন, ছন ইত্যাদি নানা ধরণের গাছগাছালিতে পুরো টইটম্বুর এই সুবিশাল স্থানটি। তবেঁ, এখানে একটি ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে যা সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভিজিটরদের কাছে।  তবেঁ, ঝুলন্ত ব্রিজটিতে পৌঁছতে গেলে বেশ অনেক রাস্তা অতিক্রম করতে হবে কেননা এটি পার্কটির একদম ভিতর সাইডে অবস্থিত।

যাওয়ার উপায় – যেকোন বাসে করে বাঘেরবাজার এলাকায় নামলেই সাফারি পার্কে যাওয়া সম্ভব। ঢাকা থেকে এর দূরত হচ্ছে মাত্র ৪০ কিলোর মত। টিকেট প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০০ আর বাচ্চাদের জন্য ৫০ টাকা করে।

  • জল ও জঙ্গলের কাব্য – গাজীপুর জেলার পুবাইলে অবস্থিত এই স্থানটি প্রকৃতির সুনিপুণ স্টাইলে নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানকার অনেক লোকজন এটিকে বলে ‘’পাইলট বাড়ি’’।চমৎকার, চোখজুড়ানো, অপরূপ জোসনা দেখার জন্য এর চাইতে ভাল জায়গা আর হয়না বললেই চলে। বিলের উপর জোসনা আলো আপনার হৃদয় হরণ করতে সক্ষম। পুরো স্থানটি তৈরি করা হয়েছে একদম গ্রামীণ স্টাইলে। প্রায় ১০-১২ টা শেড রয়েছে এই স্থানটিতে। শেডগুলির নামও বেশ চমকপ্রদ যেমন বকুলতলা, চারুতলা, বটতলা ইত্যাদি। বেশ কতগুলো ঢেঁকিও রয়েছে ছড়ানো ছিটানোভাবে যেখানে আটা দিয়ে তৈরি হচ্ছে রুটি, পিঠা ইত্যাদি সুস্বাদু গ্রাম্য খাবার।

সুবিশাল জায়গাটি প্রায় ৯০ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। ঢাকার কাছেই এমন একটি অভিনব কায়দায় গ্রাম্য পরিবেশ তৈরি করে গ্রাম বাংলার সংস্কৃতিকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সত্যিই কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়।

যাওয়ার উপায় – ঢাকার মহাখালী থেকে কালীগঞ্জের বাসে উঠে পুবাইলে নামতে হবে। সেখান থেকে অটোতে করে চলে আসা যায় পাইলটবাড়ি। এছাড়া, ৩০০ ফিট বা টঙ্গি স্টেশনরোড দিয়েও যাওয়া যায় সেখানে।