Home » খাগড়াছড়ি ভ্রমণের বৃত্তান্ত

খাগড়াছড়ি ভ্রমণের বৃত্তান্ত

খাগড়াছড়ি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি পাহাড়ি এলাকা।এটি চিটাগাং বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। এখানে আকাশ পাহাড়ের মিতালি পরিলক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি উপজাতিগত সংস্কৃতির বৈচিত্র্যতাও দেখা যায়।

যাওয়ার উপায় – ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি সরাসরি বাসে যাওয়া সম্ভব।শ্যামলী, এস আলম, শান্তিসহ বিভিন্ন পরিবহন বাসগুলি খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় ঢাকা থেকে।

দর্শনীয় স্থান –

খাগড়াছড়ি হরটিকালচার পার্ক – এই সুবিশাল পার্কটি খাগড়াছড়ির মেইন টাউনেই অবস্থিত। খাগড়াছড়ি থেকে অটোতে উঠলেই সরবচ্চ আধাঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন এখানে। এই পার্কের ভেতর ঝুলন্ত ব্রিজ, বড় বড় পাহাড় ও সূর্যাস্তের নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকন করা সম্ভব।

শতায়ুবর্ষী বটগাছ – মাটিরাঙ্গা উপজেলায় অবস্থিত এই গাছটির বয়স খোজার চেষ্টা করা একবারেই বৃথা। এর সত্যিকার বয়স স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেই অনেকেই জানেন না। প্রায় পাঁচ একর ভূমির উপর বিস্তৃত এই গাছটি খাগড়াছড়ির অন্যতম আকর্ষণ।

আলুটিলা গুহা – খাগড়াছড়ি হতে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গুহাটি খাগড়াছড়ির বিশাল প্রাকৃতিক আকর্ষণ। যারা খাগড়াছড়ি ভ্রমণে আসেন তারা কেউই এই গুহা না দেখে ফেরেননা। একে স্থানীয়রা দেবতার গুহা নামেও ডাকে। এর প্রাকৃতিক নিসর্গের তুলনা নেই। এটি অত্যন্ত সুন্দর এক পিকনিক স্পট। এর ভিতরে কফিহাউস থেকে পাহাড়ের বিশালতার উপমা উপভোগ করা যায়। গুহার ভিতর নামতে গেলে প্রায় পাঁচশের উপর সিঁড়ি ভেঙে গুহায় নামা লাগে। গুহার ভিতর ঘুটঘুটে অন্ধকার সেজন্যে মোবাইলের টর্চলাইট থাকা বাঞ্জনীয়। তবে, ঢুকার সময় বাঁশ ও কেরোসিনের আগুন পাওয়া যায় যা গুহায় ঢুকার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ভিতরে বড় বড় পাথর আর কিছু ঠাণ্ডা পানি আছে কিন্তু তেমন ভয়ংকর কিছু নেই। মনেহবে যে, সিনেমায় দেখা গুপ্তধন খোজার পালা চলছে যেন! খাগড়াছড়ি থেকে পাবলিক বাসেই এখানে আসা সম্ভব। প্রবেশ মূল্য বিশ টাকা করে। আর হ্যাঁ, ফেরার পথে সেখানকার ডাব খেতে ভুলবেন না।

রিছাং ঝর্না – আলুতিলা থেকে মাত্র ৪-৫ কিলো দুরত্তে অবস্থিত এই নয়নাভিরাম ঝর্না।চাইলে আলুতিলা থেকে কোন মটর সাইকেল বা পাবলিক বাস থামিয়েই সেখানে যেতে পারেন। ঝর্নায় যাবার পথটা বেশ রোমাঞ্চকর। চারিদিকে বুনো লতাপাতা, আঁকাবাঁকা পথ মনে হবে রূপকথার মত আপনিও কোন এডভেঞ্চারে বেড়িয়েছেন। তবে, যাবার পথটা মসৃণ নয়। যাবার সময় বাঁশ নিয়ে গেলে কিছুটা কষ্ট কমহবে। হাঁটতে হাঁটতে একসময় এসে পড়বেন ঝর্নার কাছে। তারপর মেতে উঠতে পারেন জলকেলিতে!

মায়াবি লেক – এটিও খাগড়াছড়ি থেকে কয়েক কিলো দূরে অবস্থিত। এখানে সুবিশাল একটি লেক ছাড়া তেমন কিছু অবশ্য নেই। তবে, শীতের সময় হরেক রকমের অতিথি পাখি একে দেয় আলাদা প্রাণ।

সাজেক ভ্যালি – খাগড়াছড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান। যদিও এটি আসলে রাঙামাটি জেলার অন্তর্গত কিন্তু খাগড়াছড়ি থেকে যাওয়া সহজ বলে সবাই খাগড়াছড়ি থেকেই এখানে যায়। এখানে যেতে হলে সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়ুন। এখানে দুইভাবে যাওয়া সম্ভব। চাইলে বাস রিজার্ভ করেও যাওয়া যায় আবার চাইলে চাঁদের গাড়িতেও যাওয়া যায়। তবে, চাঁদের গাড়িতে গেলেই আসল মজা উপভোগ করা সম্ভব। একটি চাঁদের গাড়ি ভাড়া করলে ছয় হাজার টাকার মধ্যেই সারাদিন পাবেন। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের দুরত্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার। পথিমধ্যে কাসালং ব্রিজ, দিঘিনালা, বাঘাইছরা জেলা পড়বে। কাসালং ব্রিজ থেকে একটু দূরে আর্মি ক্যাম্প থেকে অনুমত নেয়া লাগে সাজেকে প্রবেশ করতে। এখানকার বিজিবি ক্যাম্প বাংলাদেশের সরবচ্চ। এর ভিতরে বিশাল হেলিপ্যাডও রয়েছে। সাজেকের আঁকাবাঁকা, উঁচুনিচু পথ আপনার মনে বিশাল রোমাঞ্চের শিহরণ বইয়ে দিতে সক্ষম। ভিতরে থাকতে চাইলে বিভিন্ন রিসোর্ট যেমন মেঘ মাচাং, সারা, জুমঘর ইত্যাদি রিসোর্ট রয়েছে। সাজেক থেকে অল্প দূরে অবস্থিত কংলাক পাড়া। এর সরবচ্চ উচ্চতায় পাহাড়ী মেঘ অবলোকন করা সম্ভব। এখানে উঠতে হলে আপনাকে হাতে বাঁশ নিয়ে উঠা লাগবে। পাহাড়ের উপর বিভিন্ন পাহাড়ি জনপদ ও তাঁদের ঐতিহ্যবাহী অনেক কিছুও দেখতে পাবেন।এটি মূলত লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত পাড়া।এর সরবচ্চ উচ্চতা থেকে ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায় যেখান থেকে কর্ণফুলী নদী শুরু হয়েছে। সাজেক থেকে ফেরার সময় হাজাংছরা ঝর্না, দীঘিনালা ব্রিজও দেখে আসতে পারেন।

সবাই ঘুরতে যাই, অজানাকে দেখি। কিন্তু, সেইসাথে পরিবেশের দিকেও লক্ষ্য রাখি। এমন কিছু করবনা যাতে পরিবেশ নষ্ট হয়। আমাদের পর্যটন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতেই এই ব্যাপারে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। হ্যাপি ট্র্যাভেলিং!