Home » ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার যেসব জায়গাগুলিতে

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার যেসব জায়গাগুলিতে

              
ফাঁকা ঢাকায় ঘোরার এক ধরণের রোমাঞ্চকর আনন্দ রয়েছে, ভয়াবহ জ্যামের এই শহরে মাত্র কয়েক মিনিটে পৌঁছে যাবেন আপনার গন্তব্যে, সেই আনন্দের সাথে যোগ করুন বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঘোরার অভিজ্ঞতা

ঈদ আসলেই বেশিরভাগ মানুষই নাড়ির টানে ছুটতে থাকে নিজ নিজ বাসভূমে পরিবার ও প্রিয়জনদের সাথে আনন্দের মুহূর্তগুলি ভাগাভাগি করে নিতে। তবেঁ, অনেকেই আবার আছেন যারা রাজধানী ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করেন। যারা সাধারণত ঢাকাতেই ঈদের সময় পার করবেন তারা একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন ঈদের সময় ঢাকার ঘুরাঘুরির স্থানসমূহ –

  • ফ্যান্টাসি কিংডম – ফ্যান্টাসি কিংডম বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় থিমপার্ক। ঢাকার কাছেই আশুলিয়াতে অবস্থিত এই থিমপার্কে বরাবরের মতই এবারও থাকবে জমজমাট সব আয়োজন। ফ্যান্টাসি কিংডম কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে তারা ঈদের দিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত তাঁদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। এবারও আনন্দপিপাসুদের মন জয় করবে বলেই আশাবাদী তারা। ফ্যান্টাসি কিংডমে টিকেট মূল্য রাখা হয় ৪০০ টাকা করে তবে ছোটদের জন্য ৩৫০ টাকা রাখা হয়। ৮০০ টাকা দিয়ে পুরো প্যাকেজ কেনা যায় ফ্যান্টাসি প্লাস ওয়াটার কিংডমের।
  • নন্দন পার্ক – বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই থিমপার্কটিও ঈদের সময় বেশ জমজমাট অনুষ্ঠান ও আয়োজনের মধ্যদিয়ে যায়। ঢাকার অদূরে সাভার নবীনগরে অবস্থিত এই থিম পার্কটি ঈদের দিন সকাল থেকেই খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে নন্দন পার্ক কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন রাইডে চড়ার পাশাপাশি ওয়াটার ওয়ার্ল্ডও উপভোগ করা যাবে। নন্দন পার্কে প্রবেশ মূল্য ২৯৫ টাকা। তবেঁ, ঈদ উপলক্ষে তাঁদের বিশেষ একটি প্যকেজ আছে যার মূল্য ৬১০ টাকা। ঈদ থেকে পরবর্তী আরও কয়েকদিন এখানে ডিজে শো, ড্যান্স শোসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
  • লালবাগ কেল্লা – বাংলাদেশের মুঘল আমলের অন্যতম নিদর্শন। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী অংশে পুড়ান ঢাকায় অবস্থিত এই প্রাচীন স্থাপনাটি হতে আপরে আপনার ঈদ আনন্দের অন্যতম অংশ। কষ্টিপাথর, মারবেল পাথরের সমন্বয়ে তৈরি এই স্থাপনাটি সত্যিই বিরল ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। গ্রীষ্মকালে এটি খোলা থাকে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আর শীতকালীন সময়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দেশীয় মানুষদের জন্য টিকেট ভাড়া পড়বে ২০ টাকা করে।
  • হোসেনি দালান – ৩০০ বছরের অধিক এই স্থাপনাটি শিয়া সম্প্রদায়ের এক ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। কারবালার ঘটনাকে স্মরণ করে রাখতেই শিয়া সম্প্রদায় মোঘল আমলে এই বিশাল ইমারাতটি নির্মাণ করেছিল। এই দশকের শুরু দিকে ইরান সরকারের সহযোগিতায় ও অর্থায়নে পুরো দালানটির ব্যাপক সংস্কার সাধিত হয়। মহররমের সময় এটি শিয়াদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। ঈদের ছুটিতে পুড়ান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের নিকটবর্তী এই ইমারাতে বেড়িয়ে আসতে পারেন।
  • শিশুপার্ক – ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশের এলাকার শিশুদের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয় রাজধানীর শ্যামলীর এই পার্কটি ঈদের সময় ব্যাপক জনসমাগমে পরিপূর্ণ থাকে। শিশুদের জন্য এখানে রয়েছে আকর্ষণীয় রাইডের ব্যবস্থা। টিকেট মূল্য ১৫ টাকা করে। এছাড়া, সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র ছেলেমেয়েরা এইসব রাইডগুলিতে বিনা পয়সায় চড়তে পারবে। 
  • জাতীয় জাদুঘর – জাতীয় জাদুঘর সাধারণত সরকারী প্রতিষ্ঠান হবার কারণে সরকারী ছুটির দিনগুলিতে বন্ধ থাকে। কাজেই, ঈদের দিন এখানে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। তবেঁ, ঈদের পরেরদিন সকাল ১০ টা থেকে প্রায় রাত ৯ টা পর্যন্ত জাদুঘর সবার জন্য খোলা থাকবে। ঢাকার শাহাবাগে অবস্থিত এই জাদুঘরটির আরও একটি অধীনস্থ জাদুঘর স্বাধীনতা জাদুঘরও খোলা থাকবে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। সেখানে বিনা পয়সায় চলচিত্র দেখারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
  • কার্জন হল – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই হলটি দীর্ঘদিন যাবত ঢাকার অন্যতম স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার প্রতীক হয়ে রয়েছে। ভিক্টোরিয়া স্থাপত্যরীতিতে তৈরি এই স্থাপনাটি যে কারও মনে ধরতে সক্ষম।
  • চিড়িয়াখানা – ঈদের জন্য নতুন চেহারায় সাজছে চিড়িয়াখানা। ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতার সকল কাজপ্রনালি সম্পন্ন করে ফেলেছে। এবারের ঈদে তারা লাখের উপর দর্শক প্রত্যাশা করছে। এখানে প্রবেশ মূল্য ধরা হয় ৩০ টাকা করে।
  • জাতীয় সংসদ ভবন – ঈদের সময় বন্ধুবান্ধব বা ফ্যামিলির সাথে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটাতে চাইলে জাতীয় সংসদ ভবন হতে পারে আদর্শ জায়গা। এখানে সুন্দর পরিবেশে কিছু নির্মল আনন্দ লাভ করা সম্ভব।

এছাড়াও, চন্দ্রিমা উদ্যান, দিয়াবারি, ৩০০ফিট, নর্থব্রুক হল, ধানমণ্ডি লেক এসব জায়গাও উল্লেখযোগ্য ঈদের ছুটি কাটানোর জন্য।