Home » ই-পাসপোর্ট- প্রস্তুত আপনার জন্য

ই-পাসপোর্ট- প্রস্তুত আপনার জন্য

আমাদের বাংলাদেশিদের জন্য ই পাসপোর্ট এখন আর স্বপ্ন নয় সত্যি, পাসপোর্ট – দেশের বাইরে যেতে হলে সবার আগে এই জিনিস টির প্রয়োজন হয়ে থাকে। এছাড়া এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার বৈধ অনুমতি সম্বলিত একটি বই ই হলো পাসপোর্ট। যদিও শেষ হয়েছে কাগুজে পাসপোর্টের দিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করার দিন ও শেষ। বাংলাদেশ এ পাসপোর্ট তৈরী নিয়ে অনেকের মনে অনেক ধরনের দ্বিধা , এমনকি ভীতিও আছে। এটা থাকা মোটেও দোষের কিছু নয়। কারন যে কাজ আপনি কখনই করেননি সে কাজ নিয়ে আপনার ভয় থাক্তেই পারে। কিন্তু বর্তমানে সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করলে খুব সহজেই এখন বিদেশ পারি জমানো যাবে কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই। আর সেই জন্যই আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালে  চার হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা বাস্তবায়ন ব্যয় ধরে  ই-পাসপোর্ট (ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট)চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেটি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকেই। ই-পাসপোর্ট নামে পরিচিত বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট মেশিন রিডএবল পাসপোর্টের মতই, তবে এতে স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যেটাতে মাইক্রোপ্রসেসর চিপ এবং এন্টেনা বসানো থাকে। দ্রুত ইমিগ্রেশন পার হওয়ার মেশিন ই-পাসপোর্ট গেট দেশে এসেছে। ইতিমধ্যেই গত ২৪ জুন সোমবার ই-পাসপোর্ট ব্যবহারের জন্য হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখায় তিনটি ই-পাসপোর্ট গেট বসানো হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হলে ১লা জুলাই থেকে ই-পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন নেয়া হতে পারে, নতুবা সম্ভব না হলে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে করা না গেলে দ্বিতীয় সপ্তাহে চালু করা হবে। ই-পাসপোর্ট চালু করা হলেই বাংলাদেশের নাম ১২০ তম দেশের তালিকায় স্থান করে নিবে , কারন বর্তমানে ১১৯ টি দেশের নাগরিকরা ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। এটির মেয়াদ কাল রাখা হয়েছে পাঁচ ও দশ বছরের জন্য। সাধারন পাঁচ বছর মেয়াদের ই-পাসপোর্টের জন্য তিন হাজার পাঁচশ টাকা (২১ দিন), জরুরী পাঁচ হাজার পাঁচশ টাকা (৭ দিন) ও খুব জরুরী ভিত্তিতে সাত হাজার পাঁচশ টাকা ( ১ দিন) নির্ধারণ করা হয়েছে। ই-পাসপোর্ট চালু হলেই আস্তে আস্তে করে এম আর পি (মেশিন রিডএবল পাসপোর্ট) বাতিল করা হবে। যাদের এম আর পি’র মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে তারা রিনিউ করতে গেলে ই-পাসপোর্ট নিতে হবে। এইভাবে পর্যায়ক্রমে এম আর পি পাসপোর্ট বাতিল করা হবে। ই-গেটে গমন বা আগমনকারী ব্যক্তির পাসপোর্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিডার ও ক্যামেরার সাহায্যে চিপযুক্ত পাসপোর্ট যাচাই, ফিঙ্গার প্রিন্ট ও রিকগনিশনের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন শেষ করা হবে। ভেরিফিকেশনে ব্যক্তির তথ্য সঠিক থাকলে ই-পাসপোর্ট গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। ই-গেটের কারনে বিদেশ যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে ভ্রমনকারী যেমন উপকৃত হবে তেমনি দেশের নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে বলে মনে করছেন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রা। কোন ভুয়া তথ্যকারী বা পাসপোর্ট ধারী ইমিগ্রেশন পার হওয়ার চেষ্টা করলেই ই-গেট এ ধরা পরে যাবে। যার ফলে কোন অপরাধী পরিচয় গোপন করে ই-গেট পার হতে পারবেন না। ভ্রমনকারী নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়ালে অটোমেটিক ক্যামেরায় ছবি তুলে নিবে। তবে ভুল কিংবা অন্য কারণে লাল বাতি জ্বলে উঠলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা উক্ত ব্যক্তিকে সঠিকভাবে ই-পাসপোর্ট ব্যবহারে অবশ্যই সহযোগিতা করবেন। পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, শুরুতে ২০ লাখ ই-পাসপোর্ট জার্মানি থেকে প্রিন্ট করিয়ে সরবরাহ করা হবে। এরপর আরো ২ কোটি ৮০ লাখ পাসপোর্ট বাংলাদেশে প্রিন্ট করা হবে। সেজন্য উত্তরায় কারখানা স্থাপন করা হবে। পরে ওই কারখানা থেকেই পাসপোর্ট ছাপানো অব্যাহত রাখা হবে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা”প্রকল্পের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলো স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোতে ৫০টি ই-গেট স্থাপন করা হবে। অতএব দেশের বাইরে যদি খুব সহজে আর কোন ঝামেলা ছাড়াই যেতে চান তাহলে আপনাকে শুধু সঠিক ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে হবে। ই পাসপোর্ট নিয়ে আসুক আমাদের সবার জীবনে স্বস্তি এবং সমাধান হোক অযাচিত সব সমস্যার আর বহির্বিশ্বে সক্ষমতা বাড়ুক আমাদের সবুজ পাসপোর্টের – বাংলাদেশ এগিয়ে যাক ।