Home » অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য পর্যটন শহর পাহাড়ি জেলা বান্দরবান

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য পর্যটন শহর পাহাড়ি জেলা বান্দরবান

আনন্দ ভ্রমণ, হানিমুন, অবকাশ যাপন ও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য পর্যটন শহর পাহাড়ি জেলা বান্দরবান আদর্শ একটি স্থান । যান্ত্রিক জীবনের কর্মময় নানা ব্যস্ততার ফাঁকে সুযোগ পেলেই ঘুরে আসতে পারেন পাহাড়ি এ জেলা থেকে। এখানে রয়েছে ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বসবাস। প্রকৃতি বান্দরবানকে যেন সাজিয়েছে আপন মনের মাধুরি মিশিয়ে।

মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে যদি আপনি মনের মধ্যে ধারণ করে থাকেন তবে আমাদের সাথে ঘুরে আসতে পারেন বান্দরবান থেকে। ঢাকা থেকে বান্দরবান প্রায় ৪০০ আর চট্টগ্রাম থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান। পাহাড়ের বুকে ভাসতে থাকা মেঘের খেলা দেখতে আর প্রিয়জনের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাতে চাইলে যেতে পারেন সেখানে। বান্দরবানে ঘুরে বেড়ানোর মত অনেক জায়গা রয়েছে। যেমন- তাজিংডং, কেওক্রাডং, নীলাচল, নীলগিরি, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, নাফাখুম জলপ্রপাত, বগা লেক, বুদ্ধ ধাতু জাদি, চিম্বুক পাহাড়, রেমাক্রী, শৈলপ্রপাত, প্রান্তিক লেক, স্বর্ণমন্দির, চিংড়ি ঝর্ণা, লামা ইত্যাদি। আমাদের সাথে এবারের বান্দরবান ভ্রমণে আপনি ঘুরতে পারবেন –

★নীলগিরি

★চিম্বুক ভিউ

★শৈল প্রপাত

★নীলাচল

★মেঘলা পর্যটন

★স্বর্ণ মন্দির।

তাই সবুজে মোড়ানো প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয, অবারিত সবুজের সমারোহ এবং মেঘ ছোঁয়ার ইচ্ছে হলে আমাদের সাথে ঘুরে আসুন পাহাড়ি কন্যা বান্দরবান থেকে।

★নীলগিরি

বান্দরবান জেলা থেকে প্রায় ৫২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বান্দরবান-থানছি সড়কে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। নীলগিরিকে বাংলাদেশের দার্জিলিংও বলা হয়ে থাকে কারণ পর্যটকরা সহজেই এই জায়গা থেকে মেঘ ছুঁতে পারেন। নীলগিরিতে দাঁড়িয়ে আপনার যে দিকে চোখ যাবে চোখে পড়বে শুধু সবুজ আর সবুজ। নির্জন প্রকৃতি আর চারপাশে সবুজের সমারোহ নীলগিরির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পাহাড়ি আঁকা-বাঁকা পথ দিয়ে বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি কিংবা জীপ অথবা মাইক্রো বাসে করে নীলগিরিতে যাওয়া যায়।

নীলগিরি প্রকৃতির এক অনন্য দান। নীলগিরির চূড়া থেকে দাঁড়িয়ে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় কেওক্রাডং, বগালেক, কক্সবাজার সমুদ্র, এবং চোখ জুড়ানো পাহাড়ের সারিও দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প নীলগিরিতে রয়েছে । তাই এখানে নিরাপত্তার কোন ঘাটতি নেই। আপনার যে কোন প্রয়োজনে সেনা সদস্যরা আপনার পাশেই রয়েছে।

★চিম্বুক ভিউ

বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত হলো চিম্বুক।  সারা দেশের কাছে পরিচিত নাম চিম্বুক। বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে চিম্বুকের উচ্চতা প্রায় ২৫০০ শত ফুট। এখানে যাওয়ার রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ি দৃশ্য খুবই মনোরম। চিম্বুক যাওয়ার পথে সাঙ্গু নদী চোখে পড়বে। পাহাড়ের মাঝে আঁকা বাঁকা পথ বেয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সড়ক দিয়ে এতে যাতায়াতে মনে হবে গাড়িতে করে চাঁদের বুকে পাড়ি জমানোর অনুভূতি। ২৫০০ ফুট উঁচু পাহাড়ে দাঁড়িয়ে অপরূপ বিচিত্র দৃশ্য দেখতে পাবেন এখানে। চিম্বুক পাহাড়ে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের নিচ দিয়ে মেঘ ভেসে যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা যায়। এখান থেকে পার্শ্ববর্তী জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এর বিভিন্ন উপজেলাগুলোকেও দেখা যায়। বর্ষা মৌসুমে চিম্বুক পাহাড়ের পাশ দিয়ে ভেসে যাওয়া মেঘ দেখে মনে হয় মেঘের স্বর্গরাজ্য চিম্বুক। মেঘের হালকা হিম ছোঁয়া আপনাকে মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি দিবে। চিম্বুককে বাংলার দার্জিলিং বলা হয়ে থাকে।চিম্বুক থানছি সড়কের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে হোটেল বা রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠেনি। জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে একটি রেস্টহাউস এখানে আছে। জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রি যাপনের সুযোগ রয়েছে। চিম্বুকের পাশে সেনাবাহিনীর ক্যান্টিন রয়েছে। এখানে সকালে নাস্তা ও দুপুরে খাবার পাওয়া যায়।

★শৈল প্রপাত

বান্দরবান-রুমা সড়কের ৮ কিলোমিটার দূরে শৈলপ্রপাত অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব সৃষ্টি। ঝর্ণার হিমশীতল পানি এখানে সর্বদাই প্রবাহমান। এই ঝর্ণার পানিগুলো খুব স্বচ্ছ এবং হীম শীতল।বর্ষাকালে এ ঝর্ণার দৃশ্য দেখা গেলেও ঝর্ণাতে নামা খুব দুস্কর, বছরের বেশীর ভাগ সময় দেশী বিদেশী পর্যটকে ভরপুর থাকে শৈল প্রপাত। রাস্তার পাশেই শৈল প্রপাতের অবস্থান হওয়ায় এখানে পর্যটকদের প্রচুর ভিড় দেখা যায়। এখানে আদিবাসী বম সম্প্রদায়ের সংগ্রামী জীবন প্রত্যক্ষ করা যায়।

★নীলাচল

বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হল নীলাচল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০০ ফুট উঁচু এই জায়গায় বর্ষা, শরৎ এমনকি হেমন্ত— তিন ঋতুতে ছোঁয়া যায় মেঘ। বান্দরবান শহর থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়া নামক এলাকা। সেখানকার পাহাড়ের চূড়ায় বান্দরবান জেলা প্রশাসন গড়ে তুলেছে আকর্ষণীয় এই পর্যটন কেন্দ্র নীলাচল পর্যটক কমপ্লেক্স।

নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের চূড়ায় পর্যটকদের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। নীলাচলের মূল পাহাড়ের চূড়ার চারপাশে মনোরম স্থাপনা শৈলীতে নির্মাণ করা হয়েছে এসব কেন্দ্র। একটি থেকে অন্যটি একেবারেই আলাদা। আর একেক দিক থেকে পাহাড়ের দৃশ্যও একেক রকম। বর্ষা পরবর্তী সময়ে এখানে চলে মেঘের খেলা। কিছুসময় পর পর দূর পাহাড় থেকে মেঘের ভেলা ভেসে আসে নীলাচলের চূড়ায়। সাধারণ পর্যটকদের জন্য এ জায়গায় সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকার অনুমতি রয়েছে।

★মেঘলা পর্যটন

বান্দরবান শহরের প্রবেশমুখেই বান্দরবান কেরাণীহাট সড়কের পাশেই পার্বত্য জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স অবস্থিত। পাহাড়ের খাদে বাঁধ নির্মাণ করে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি করা হয়েছে । বান্দরবান শহর থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। বেড়াতে আসা পর্যটকদের বিনোদনের জন্য এখানে রয়েছে শিশুপার্ক। নৌকা ভ্রমণের সুবিধা এখানে রয়েছে, ঝুলন্ত সেতুর মাধ্যমে চলাচলের ব্যবস্থা এবং সাময়িক অবস্থানের জন্য একটি রেস্টহাউসও এখানে রয়েছে। এছাড়া আকর্ষণীয় একটি চিড়িয়াখানা এখানকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুণ। মেঘলায় ২টি ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে সারা দেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। নিরিবিলিতে সপরিবারে বেড়ানোর জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।

★স্বর্ণ মন্দির

বান্দরবানের পুল পাড়া নামক স্থানে বান্দরবান স্বর্ণমন্দির এর অবস্থান। বান্দরবান জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। এটি বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান । দেশ বিদেশ থেকে অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী স্বর্ণ মন্দির দেখতে এবং এখানে  প্রার্থনা করতে আসেন। এর অপর নাম মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বুদ্ধধাতু চেতী। গৌতমবুদ্ধের সম-সাময়িক কালে নির্মিত বিশ্বের সেরা কয়েকটি বুদ্ধ মুর্তির মধ্যে একটি এখানে রয়েছে। এই প্যাগোডাটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সেরা প্যাগোডাগুলোর মধ্যে অন্যতম। পাহাড়ের উপর দেবতা পুকুর নামে একটি পানি সম্বলিত ছোট পুকুর আছে। এই প্যাগোডা থেকে বান্দরবানের বালাঘাটা উপশহর ও এর আশপাশের নৈসর্গিকদৃশ্য উপভোগ করা যায়। এই প্যাগোডা একটি আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে এখানে মেলা বসে। পূজারীদের জন্যে প্যাগোডাটি সারাদিন খোলা থাকে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী দর্শনার্থীদের জন্য বিকেল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত স্বর্ণ মন্দিরটিকে খুলে দেওয়া হয় ।